October 14, 2026, 11:29 am

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-লেবানন চুক্তির মূল বিষয়গুলো

যমুনা নিউজ বিডি: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের দ্বিতীয় ফ্রন্টে পরিণত হওয়া লেবানন-ইসরাইল সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইসরাইল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় কাঠামো চুক্তির পূর্ণ পাঠ শুক্রবার প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।

ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী এই ১৪ দফা চুক্তির প্রধান বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

স্থায়ী শান্তির লক্ষ্য

চুক্তির শুরুতেই বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরাইল ও লেবানন ‘স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার অভিন্ন লক্ষ্য’ পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রতিবেশী দুই দেশ ‘চূড়ান্তভাবে সংঘাতের অবসান, এর মূল কারণগুলোর সমাধান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থার ইতি টানার’ অভিপ্রায় ঘোষণা করেছে।

যাচাইকৃত নিরস্ত্রীকরণ

চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সব সমস্যার সমাধানে ‘অপরিবর্তনীয় অগ্রগতি’ অর্জনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ও সহায়তায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলবে।

চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর যাচাইকৃত নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের অবকাঠামো অপসারণের পর পুরো লেবানন ভূখ-ে কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।

এর ফলে ধাপে ধাপে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) লেবাননের ভূখ- থেকে সরে যাবে। এই প্রক্রিয়ার ধাপ ও যাচাইব্যবস্থা চুক্তির আওতায় নির্ধারণ করা হবে।

পাইলট অঞ্চল

এলএএফ ধীরে ধীরে কয়েকটি ‘পাইলট অঞ্চলে’ পূর্ণ নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এসব অঞ্চলই আইডিএফের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার এবং এলএএফের মোতায়েনের পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

প্রাথমিকভাবে দুইটি পাইলট অঞ্চলে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আরও অঞ্চল যুক্ত করা হবে।

ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহসহ অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত হওয়ার পর এসব এলাকায় পূর্ণ নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে এলএএফ।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, এরপর আন্তর্জাতিক সহায়তায় পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে এবং লেবাননের বেসামরিক নাগরিকরা নিরাপদে নিজ এলাকায় ফিরে যেতে পারবেন, যেখানে কেবল লেবাননের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

এ প্রক্রিয়া যাচাই ও বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

কর্মপর্যায়ের দল

চুক্তিতে লেবানন সরকার তাদের ভূখণ্ডে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সরকার রাষ্ট্রের একচ্ছত্র বলপ্রয়োগের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সব অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ ও যাচাইকৃত নিরস্ত্রীকরণ এবং ভবিষ্যতে এসব গোষ্ঠীর কোনো সামরিক বা নিরাপত্তা ভূমিকা কিংবা অস্ত্রধারণের সুযোগ না রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এ লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে আরব দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে লেবানন।

এ ছাড়া ইসরাইল ও লেবানন একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির খসড়া প্রণয়নের জন্য যৌথ কর্মপর্যায়ের দল গঠন করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় অব্যাহত সরাসরি যোগাযোগ শুরু করবে।

‘ভূখণ্ডগত আকাঙ্খা নেই’

ইসরাইল জানিয়েছে, লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান কেবল অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী, বিশেষ করে হিজবুল্লাহর হামলা, হুমকি ও বৈরী তৎপরতার প্রতিক্রিয়া।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, এসব গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভবিষ্যতে লেবাননে আইডিএফের সামরিক উপস্থিতি বা অভিযান পরিচালনার প্রয়োজন থাকবে না।

একই সঙ্গে ইসরাইল সরকার ঘোষণা করেছে, ‘লেবাননের কোনো ভূখণ্ডের ওপর তাদের কোনো আকাঙ্খা নেই।’

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD